ক্রয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত

ছয় দেশ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

ছয় দেশের সাত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

ছয় দেশের সাত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এ তেল কেনা হবে। অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া সভায় অকটেন, এলএনজি, সার ও গম ক্রয়-সংক্রান্ত আরো কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে তিনটি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে তিনটি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি পর্যালোচনা করে সাতটি প্রস্তাবেই অনুমোদন দিয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জিটুজি মেয়াদি চুক্তির আওতায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। থাইল্যান্ডের পিটিটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি, মালয়েশিয়ার পিটিএলসিএল এবং ভারতের আইওসিএলের কাছ থেকে এ জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেকটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্দোনেশিয়ার বিএসপির কাছ থেকে ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন ৯৫ আনলোডেড অকটেন আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২০৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে প্রিমিয়াম প্রাইস ব্যারেলপ্রতি ৫ দশমিক ৯৩ ডলার এবং রেফারেন্স প্রাইস ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৬১ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্পট মার্কেটের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৫৬৯ কোটি ২৯ হাজার ৩৬৩ টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ১৩ দশমিক ৫২ ডলার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৪২ ডলার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তিউনিসিয়ার জিসিটি এবং বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ২৫ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমতি দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৫৫০ ডলার।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৪৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৭১০ ডলার।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেরেল কর্পস ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে ৫০ হাজার টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৬৮ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রতি টন গমের দাম পড়বে ২৭৫ ডলার।

আরও